সংক্ষিপ্ত জীবনী – লতিফুর রহমান

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি–নৈতিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন লতিফুর রহমান। তাঁর জন্ম জলপাইগুড়িতে, ১৯৪৫ সালের ২৮ আগস্ট। ঢাকায় থাকতেন গেন্ডারিয়ায়। পড়াশোনার শুরু সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুলে। এরপর শিলংয়ের সেন্ট এডমন্ডস স্কুলে এবং কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন। ১৯৬৬ সালে ডব্লিউ রহমান জুট মিলে ট্রেইনি হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তিনি সবকিছু নতুন করে শুরু করেছিলেন প্রায় শূন্য হাতে।

নিজের হাতে তৈরি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক, ইলেকট্রনিকস, গণমাধ্যম, কোমল পানীয়, চা, ভোক্তাপণ্যসহ ১০টি ব্যবসা খাতে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৬টি কোম্পানিতে কাজ করছেন সাড়ে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ট্রান্সকম গ্রুপের বিস্তৃতি দেশ ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও।

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা, সুনাম আর সততার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তিনি পান বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জগতে নোবেল বলে খ্যাত। বাংলাদেশের কোনো উদ্যোক্তার এটাই প্রথম এই ধরনের পুরস্কার পাওয়া। সরকারের পাওনা শুল্ক–কর দেওয়ার ক্ষেত্রে লতিফুর রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপ অন্যদের কাছে অনুসরণীয়।

২০২০ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। ঢাকার বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন লতিফুর রহমান।

ব্যক্তিগত তথ্য

  • নামলতিফুর রহমান
  • জন্ম২৮ আগস্ট ১৯৪৫, জলপাইগুড়ি, ভারত
  • মৃত্যু১ জুলাই ২০২০, চিওড়া, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
  • বাবাখান বাহাদুর মজিবুর রহমান
  • মাবেগম সাকেরা বানু
  • শৈশবগেন্ডারিয়া, ঢাকা
  • জাতীয়তাবাংলাদেশি
  • শিক্ষাজীবনসেন্ট ফ্রান্সিস স্কুল, ঢাকা। সেন্ট এডমন্ডস স্কুল, শিলং। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা
  • পেশাব্যবসায়ী। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা
  • পুরস্কারবিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড, ২০১২
  • পরিবারস্ত্রী: শাহনাজ রহমান, সন্তান: আরশাদ ওয়ালিউর রহমান, সিমিন রহমান, শাজরেহ রহমান ও শাজনীন রহমান